আইএমএফ : ব্যাংক বাঁচাতে টাকা ছাপানো 'আত্মঘাতী'

উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেও সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে রক্ষার পদক্ষেপকে ‘আত্মঘাতী’ বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালার দুর্বলতা ও দায়িত্বহীন পরিদর্শনের সুযোগে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে অর্থ পাচারের ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। ঋণ জালিয়াতি এবং ব্যাংক তছরুপে সহযোগীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর অবহেলার পরিচায়ক বলে অভিযোগ করেছেন আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণের শর্ত পর্যালোচনায় ঢাকায় অবস্থানরত আইএমএফ মিশনটি সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করেন। যেখানে তারা বিএফআইইউ এবং ব্যাংকগুলোর শিথিলতা ও অবহেলার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এর আগে গত মঙ্গলবারের বৈঠকেও একই বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রতিনিধিদল পরিস্থিতি দ্রুত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আইএমএফের সদস্যরা দাবি করেছেন, প্রেসক্রাইবড পরিদর্শনের মাধ্যমে বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করে ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। গত কয়েক বছরে ব্যাংক খাতে ঋণ অনাচারের কারণে ব্যাপক অর্থ হরিলুট হয়েছে। ঋণের নামে চুরি ও ডাকাতি একসঙ্গে সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি গ্রুপ এবং কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ব্যাংক খাতের নিয়মকানুনকে নিজেদের স্বার্থে ভেঙে ফেলেন। যার ফলে ব্যাংক খাত পঙ্গু হয়ে পড়েছে এবং সেখান থেকে দেখা দিয়েছে তারল্যসংকট। আরও কিছু ব্যাংক গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে টালবাহানা করছে, যার কারণে গ্রাহকদের আস্থা তলানিতে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ছাপিয়ে সংকটগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে হাজার হাজার কোটি টাকার নগদ সহায়তা দিয়েছে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। উসকানি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর কিছু দুর্বলতা আইএমএফ ‘রেড মার্ক’ করে চিহ্নিত করেছে এবং ব্যাংকিং খাতে লুটপাটের কড়া নজরদারি নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে। আইএমএফের মতে, টাকা ছাপানো একটি আত্মঘাতী ও গণবিরোধী পদক্ষেপ, যা পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে। এদিকে প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) শিথিলতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষত গত ১৫ বছরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি প্রভাবশালী মহল বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরও বিএফআইইউ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছে। আইএমএফ পাচারে সন্দেহভাজন কিছু হিসাব তলব, লেনদেনে স্থিতাদেশ এবং জব্দের মতো পদক্ষেপের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার বিষয়ে বিএফআইইউর সদস্যদের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী একাধিক সূত্রের তথ্যমতে, আইএমএফ এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য চাপ দিয়েছে। জানতে চাইলে অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ড. মইনুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, ‘এ অবস্থায় ব্যাংক খাতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সামনে দেশের অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়বে। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত জরুরি। ব্যাংক লুটেরা এবং খেলাপি ঋণগ্রহীতা এবং অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।’


বৈঠকে উপস্থিত অপর একটি সূত্র জানায়, ব্যাংকগুলোর নিয়মনীতি পরিপালনে ঘাটতি, ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি, পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্বহীনতা এবং আইন প্রয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুর্বল ভূমিকা আইএমএফের কাছে দায়িত্বে অবহেলার অংশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আইএমএফ ব্যাংকগুলোর উন্নতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত পদক্ষেপ যাচাই-বাছাই করছে। তারা ব্যাংকগুলোর ক্যামেল রেটিংয়ের আওতায় মূলধন পর্যাপ্ততা, সম্পদের গুণগত মান, ব্যবস্থাপনা, মুনাফাজনিত আয়, তারল্য এবং বাজারের ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ ও তদারক কার্যক্রমের কার্যকারিতা পর্যালোচনা করছে। এছাড়া ঋণ আদায়ের সমস্যা, গ্রাহকের অবস্থান এবং বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তারা মতামত দিয়েছে এবং ব্যাংকগুলোর ঋণের চাহিদা এবং গ্রাহকের আস্থা ফেরানোর উদ্যোগের বাস্তবতার প্রতি নজর দিয়েছে। আইএমএফের পক্ষ থেকে খেলাপি ঋণের মান, পরিমাণ ও লক্ষ্য অর্জন নিয়ে কড়া মতামত প্রদান করা হয়েছে; যা ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


আরেক কর্মকর্তা জানান, বেনামি ও জামানতবিহীন ঋণ দেওয়ার ফলে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপ, নীতিমালার দুর্বলতা এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ব্যাংকের নির্বাহী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালার শিথিলতা, পরিদর্শনে ত্রুটি এবং অর্থঋণ আদালতের কার্যকারিতা জোরদারে তাঁরা আরও মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া ডলারের রেট, আমদানি-রপ্তানির আড়ালে পাচার, কার্যকর মুদ্রানীতি প্রণয়ন এবং পরবর্তী ১২ মাসের জন্য বেঞ্চমার্ক কাঠামো নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জানতে চাইলে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক হুসনে আরা শিখা বলেন, আইএমএফের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ব্যাংককে তাৎক্ষণিক কিছু পরামর্শ দিয়েছেন এবং কিছু বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে অতিরিক্ত তথ্য চেয়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত শ্বেতপত্রের খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত ১০টি ব্যাংক বর্তমানে টেকনিক্যালি দেউলিয়া এবং সংকটে রয়েছে। সিপিডি জানিয়েছে, কিছু ব্যাংক কার্যত মৃত এবং অনেক ব্যাংক ‘ক্লিনিক্যালি ডেথ’ হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরও একই মন্তব্য করেছেন, ১০টি ব্যাংক তারল্যসংকটে এবং দেউলিয়ার পথে যাচ্ছে। এ ছাড়া গত ২ নভেম্বর টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান দাবি করেন, প্রতিবছর ১২ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়।

Notebook
বিস্তারিত

ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই একর পর এক খড়গ নেমে আসছে অবৈধ অভিবাসীদের ওপর। একের পর এক দুঃসংবাদ শুনছেন তারা। এবার অবৈধ অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র বের করে দিতে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন বলে জানিয়েছেন নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউসে বসার পর দেশ থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়িত করার পরিকল্পনা আগেই জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘দ্য পলিটিকো’র উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াশিংটন থেকে এএফপি এই খবর জানিয়েছে। এদিকে ট্রাম্প গতকাল সোমবার আরেকটি পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেন। তা হচ্ছে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি জারি করবেন তিনি।



বতর্মান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে মেক্সিকোর সীমান্ত পেরিয়ে রেকর্ড সংখ্যক অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এ নিয়ে অনেক আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন ট্রাম্প। এইসব অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের কাজও শুরু করেছিলেন। এবারের নির্বাচনে তার অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল- যুক্তরাষ্ট্রকে বেআইনি অভিবাসী মুক্ত করা।



আগামী ২০ জানুয়ারি শপথ নিয়ে হোয়াইট হাউসে বসবেন ট্রাম্প। ইতোমধ্যে প্রশাসন গোছানোও শুরু করে দিয়েছেন  তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের দায়িত্ব দিয়েছেন অভিবাসন বিষয়ে কট্টরপন্থি টম হোম্যানকে। মার্কিন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ অবৈধভাবে বসবাস করছেন। ট্রাম্প যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসীদের তাড়ানো শুরু করেন, তাহলে তা সরাসরি প্রায় ২ কোটি পরিবারের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।


 

মঙ্গলবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটি ও এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘ভারত, এশিয়া ও বিশ্ব’ শিরোনামের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি। তার দাবি, ভারত প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক বিষয় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায় না।



জয়শঙ্কর বলেন, সম্পর্ক নিয়ে আগাম কোনো ধারণায় উপনীত না হওয়ার অনুরোধ করব সবাইকে। বিষয়টা এমন নয় যে, ভারত তার সব প্রতিবেশী দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। এভাবে চলেও না। এমনটা হয়ও না। এভাবে শুধু আমরা (ভারত) না, কেউই কিছু অর্জন করতে পারে না। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাকে নিঃশর্তে সহায়তা করেছে ভারত। সম্প্রতি দুই দেশে সরকার পরিবর্তনের বিষয়টি নয়াদিল্লির জন্য বৈরী পরিবেশ সৃষ্টি করেছে—এমন মন্তব্যের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।



জয়শঙ্কর বলেন, দিন শেষে প্রতিটি প্রতিবেশীর নিজস্বতা থাকে। আমরা তাদের বলব না যে তোমাদের প্রবাহ আমাদের পছন্দ অনুযায়ী হোক। তেমন বলা আমাদের ইচ্ছাও নয়। আজকের দুনিয়ায় এটাই সত্য। প্রতিটি দেশই নিজের পছন্দ অনুযায়ী নীতি ঠিক করে। অন্যদের সেই মতো বোঝাপড়া করতে হয়। সেইভাবে এগোতে হয়।



এ প্রসঙ্গেই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কথা ওঠে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্যদের থেকে বাংলাদেশের বিষয়টি একটু আলাদা। গত এক দশকে আমরা এমন কিছু প্রকল্পে কাজ করেছি যা উভয় দেশের জন্যই মঙ্গলজনক। সার্বিকভাবে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বেড়েছে। এ অঞ্চলের লজিসটিক খাতের উন্নয়ন হয়েছে।



জয়শঙ্কর এ কথা বলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে প্রথম বৈঠকের পর। বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সূত্রগুলো ওই বৈঠককে কার্যকর, ইতিবাচক ও গঠনমূলক হিসেবে বর্ণনা করেছে।



জয়শঙ্কর বলেন, প্রতিটি দেশ তাদের নিজেদের ভাবনা অনুযায়ী চলে। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে আপনাকে যেকোনো বিষয় জেনেবুঝে সে অনুযায়ী সাড়া দিতে হবে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে সবকিছুর শেষে আমরা অনুধাবন করব যে, প্রতিবেশী হিসেবে আমরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। এক দেশ অপর দেশের উপকারে আসতে পারে। এতেই সবার স্বার্থ নিহিত। বাস্তবিকতাই সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি ঠিক করে দেয়। ইতিহাসের শিক্ষা তেমনই।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়াহেদপুর এলাকায় শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) বিকাল ৫ টার দিকে একটি ট্রেনের ধাক্কায় এক নারী নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই নারী মানসিকভাবে অসুস্থ-ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং তিনি রেললাইনে ঘুরাফেরা করছিলেন।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারীক রেললাইনে শুয়ে থাকতে দেখলে লোকজন তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি তখন রেললাইনের পাশে হাঁটতে শুরু করেন। কিছুক্ষণ পরেই ট্রেনের ধাক্কায় তার মৃত্যু ঘটে।


সীতাকুণ্ড রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আমজাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অপেক্ষার প্রহর শেষ। মধ্য অক্টোবর থেকে কাঞ্চনজংঘা সৌন্দর্যের প্রাচুর্য নিয়ে অবারিতভাবে নিজেকে মেলে ধরলেও এবার বেশ কিছু দিন থেকেই হতাশ করছিল প্রকৃতি প্রেমিকদের। প্রকৃতির নানা খেলায় দেখা মিলছিল না এই পর্বতের। হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন পর্যটকেরা। কিন্ত বুধবার থেকে আবার জেগে উঠেছে বরফ ঢাকা এই পর্বত। হেমন্তের ছোঁয়ামাখা হিমালয়ের চাদর বিছানো সমতল অঞ্চল পঞ্চগড়ের মাঠজুড়ে ধান পাকা শুরু হয়েছে। আর ঠিক এই সময়ে হিমালয় কন্যা খ্যাত শীত প্রধান এই জেলায় অনুভূত হচ্ছে মধুর শীতের আমেজ। ভোর বেলায় কুয়াশা পড়ছে। ঝড়ছে শিশির বিন্দু। ধানের শীস বা ঘাসের উপর শিশির কণা মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছে। কুয়াশা আর শীতের আমেজে বিরাজ করছে মোহময় পরিবেশ। শরীর জুড়ে লাগছে হিমালয় থেকে বয়ে আসা হেমন্তের সুবাতাস। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ পাহাড় হিমালয়ের বুকচিরে জেগে উঠছে পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ কাঞ্চনজংঘা। ভোর বেলা সূর্য ওঠার সাথে সাথে রূপ লাবণ্য ছড়িয়ে দিয়ে কাঞ্চনজংঘা সারা পঞ্চগড়ে এক মায়াময় আবেশ সৃষ্টি করছে। 


পঞ্চগড়ের স্থানীয়রা সুদীর্ঘকাল ধরে সকালের ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতেই উপভোগ করেন কাঞ্চনজংঘার রূপ। শরৎ, হেমন্ত আর শীত কালেই দেখা মেলে এই মহাশুভ্র নায়কের। কখনো কখনো বছরের অন্যান্য সময়েও আকাশের বুক চিরে উঁকি দেয় । ভোর থেকে আস্তে আস্তে নিজেকে মেলে ধরে এই শৃঙ্গ। হিমালয়ের স্নিগ্ধতা হাসি ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এক শক্তিমান প্রতিভূর মতো দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ লুকিয়ে পড়ে মেঘের আড়ালে। আকাশ আর স্থলের দিগন্ত বিস্তৃত ক্যানভাসে যেন আঁকা ছবি। বাতাসে উড়তে উড়তে মেঘ সরে গেলে আবার জেগে ওঠে। ক্ষণে ক্ষণে রং বদলায়। আবার হারিয়ে যায়। মনে হয় কেউ যেন মুছে দেয় আঁকা সেই ছবি। প্রকৃতি আর কাঞ্চনজংঘা প্রেমিদের সাথে চলে লুকোচুরি খেলা। এই লুকোচুরির খেলায় দর্শকেরাও যোগ দেয়। আবার জেগে ওঠার অপেক্ষা করেন তারা। পর্যটকেরা চোখ বড় করে দূরে তাকিয়ে থাকেন।

কখন দেখা মিলবে রহস্যময় এই পাহাড়ের?

অপেক্ষা ছাড়া কোন উপায় থাকেনা তখন। তেঁতুলিয়া উপজেলার ডাকবাংলো এলাকা, মহানন্দা, ভেরসা,করোতোয়া, ডাহুক নদীর পাড় এবং বিভিন্ন গ্রাম থেকে সবচেয়ে ভালো উপভোগ করা যায় কাঞ্চনজংঘা। কাঞ্চনজংঘাকে বলা হয় সুপেয় পানির ঠিকানা। বরফের এই পাহাড় থেকে নেমে এসেছে চারটি নদী। এই নদীগুলো বয়ে গেছে পঞ্চগড়ের উপর দিয়ে। হিমালয় আর কাঞ্চনজংঘার জলের ধারাও বয়ে যাচ্ছে এই সমতলের মাটির গভীর দিয়ে। এজন্য এই এলাকার পানি বাংলাদেশের সর্বোৎকৃষ্ট সুপেয়। এই পানিকে মিঠা পানিও বলা হয়। তবে সবসময় দেখা মেলে না সাদা শুভ্র এই পাহাড়ের। মেঘ আর কুয়াশা মাঝে মাঝেই আড়াল করে রাখে তাকে। তখন অপেক্ষা ছাড়া কোনও উপায় থাকে না। এ জন্য অনেকে বলে থাকেন কাঞ্চনজংঘা দেখার জন্য কপালও লাগে। কাঞ্চনজংঘা। ১৮৫২ সালের আগে পৃথিবীতে কাঞ্চনজংঘাকে সর্বোচ্চ শৃঙ্গ বলেই ধারণা করা হতো। বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতচূড়া হিসেবে পৃথিবীতে স্থান করে নিয়েছে কাঞ্চনজংঘা। কাঞ্চনজংঘার  উচ্চতা ৮ হাজার মিটার বা ২৬ হাজার ফুট। এই পর্বত চূড়ার মোহনীয় সৌন্দর্য দেখতে হাজার হাজার পর্যটক ভারত নেপাল ভ্রমণ করেন। পঞ্চগড়ে খালি চোখেই দেখা যায় এই পর্বত শৃঙ্গের অপরূপ সৌন্দর্য। কাঞ্চনজঙ্ঘার এই মনোমুগ্ধকর রূপ দেখতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ভীড় জমাচ্ছেন পর্যটকেরা। স্থানীয়রা বলছেন কাঞ্চনজংঘা দেখা গেলে সারাদেশের পর্যটকরা ছুটে আসেন তেঁতুলিয়ায়। তখন একটি উৎসবের মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কাঞ্চনজংঘা, শীতের আমেজ আর কুয়াশা এখন পুরো পঞ্চগড়কে আবেশময় করে তুলেছে। কিন্তু বছর জুড়ে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকের ভীর লেগে থাকলেও এখনো পর্যটন কেন্দ্রীক উন্নয়ন ঘটেনি। এ জন্য প্রয়োজন সরকারি বেসরকারি উদ্যোগ।

ফেসবুকে আমরা

ভিডিও গ্যালারী

 

 

সর্বশেষ প্রকাশিত সংবাদ আরো খবর